মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৯

ইসলামিক রীতি, পারিবারিক বাধা এবং একটি পরিকল্পনা

ইসলামিক কালচার পালনে পারিবারিক ও সামাজিক বাধা- কেন, কি জন্য এবং ইসলামিক রীতি বাস্তবায়নে একটি পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা।

 Model: Nibir Mahmud
অনেক তরুন তরুনীর ইসলামিক কালচার তথা সুন্নি লেয়াজ ধারনে একটা প্রশ্ন কাজ করে। তাদের ধারনা সুন্নতি লেয়াজ ধারনে ছোট থেকেই পরিবার ও সমাজ বাধা দেয়। ইসলামিক কার্যকালাপের ব্যপারে পরিবার নাকি নিরুৎসাহিত করে এবং পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যই নাকি বলে এটা না করলেও চলবে ওটা না করলেও চলবে।  আসলে সত্যিই কি এগুলো কেও বলে? আসুন ব্যপারটি একটু ঝালিয়ে নিই।

অনেক ভেবে দেখলাম সত্যিকারার্থে ইসলামিক কালচার পালনে আমাদের পরিবার তরুন তরুনীদের কখনো নিরুৎসাহিত করে না। যদি করে তবে তার কিছু কারন রয়েছে অথবা পরিবারটি ইসলামিক নামধারি অনিসলামিক কোন পরিবার।

ধরুন কোন জঙ্গলে ৭ জন ডাকাতের মাঝে একজন নিরস্ত্র পথচারী উপস্থিত হল আর ডাকাতের সরদার যদি পথচারীকে ডাকাত দের সাথে মিশে ডাকাতি করতে বলে তখন সেই নিরস্ত্র পথচারী কি করবে? না পারবে আত্মহত্যা করতে, না পারবে ডাকাতি করতে। নিজেকে এ দুই থেকে রেহায় পেতে হয় তাকে ডাকাতদের হাতে বন্দী থাকতে হবে নইলে ভয়পেয়ে প্রস্রাব পায়খানা করে পাগল সাজতে হবে! বর্তমান সামাজিক ও রাষ্ট্রিয় প্রেক্ষাপটে ইসলামিক চেতনা থাকা যেন এক মস্তবড় সমস্যা। নিজেকে ইসলামিক করে তুলতে অথবা ইসলামিক সমাজের চেতনায় সকলকে উৎসাহিত করতে পারিপার্শ্বিক পথ বর্তমানে এমন দাড়িয়েছে যে ইসলামিক জীবন ব্যবস্থা কায়েম করতে গেলে হয় তুমি নিজেকে আত্নহত্যা করিয়ে দাও, অথবা সুইসাইড এটাক করিয়ে দাও, হয় কারাগারে থাক নইলে পুরাপুরি অনিসলামিক হয়ে অন্যদের মত করে চল অথবা গোপনে যথাসম্ভব ইসলামিক কালচার বজায় রেখেই নিজেকে অন্যদের সাথে মানিয়ে চল। এর মাঝে কোনটি উত্তম? সুইসাইড বোম্বিং করে নিরীহ কারো জীবন হত্যা করে কি ইসলামি জীবন ব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব? নাকি যথা সম্ভব নিজেকে অন্যদের সাথে সামাজিক ভাবে মানিয়ে নিয়ে নিজের আদর্শের আলোকে অন্যদের ইসলামিক চেতনায় উজ্জীবিত করায় উত্তম? বেছে নেওয়ার দায়িত্ত যার যার। যার মস্তিষ্ক যেমন সে নিশ্চয় তেমন টিই বেছে নেবে।

 আসুন কোরানে উল্লেখিত সেই গুহাবাসীর কথা স্মরন করি। যারা ঈমান রক্ষায় শত্রুর হাত থেকে বাচতে গুহাবাসী হয়েছিল। আর তাদের পরিবার নির্যাতনের স্বীকার হয়ে মৃত্যুবরন করেছিল। হাদিসে অন্যায়ের প্রতিবাদ বা ঈমানি প্রতিবাদের কয়েকটি রূপ বর্ননা করা হয়েছে,  যদি তুমি পার তবে সরাসরি প্রতিবাদ কর, যদি সেটা না পার তবে অন্তত অন্যদের প্রতিবাদে উৎসাহিত কর, যদি সেটাও না পার তবে মনে মনে প্রতিবাদ কর। সুতারং পরিবেশ আর রাষ্টিয় ব্যবস্থা একটি বড় ফ্যাক্ট। আমাদের এটা মনে রাখা উচিৎ যে আমরা নিজের জায়গায় বসবাস করছি না বরং আমরা সরকারী  বা রাষ্টিয় জায়গাতে বসবাস করছি। আর রাষ্টের সাথে তালমিলিয়ে চলা ছাড়া রাষ্ট বসবাসের অনুমতি দিবে না অথবা রাজদ্রোহী হওয়ায় কারাবাস দিবে। তাই নিজেকে রক্ষা করেই যে কোন মহৎ কাজ সম্পাদন করা জরুরী। আর সকলেরি বিষয়টি  মনে রাখা উচিৎ। 

আচ্ছা ইসলামি কোন শাসকের আন্ডারে যদি কোন ইহুদি নিজ ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দলন করে তবে সেটা কি ইহুদির বোকামি হবে না? তার পরিনতিই বা কি হবে? মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ ইসলামিক দেশ নয়। এটি গন্তান্ত্রিক দেশ। এটি হিন্দু, মুসলিম সহ অসংখ্য ধর্মাবলম্বী দের রক্তে অর্জিত দেশ। ভারত বর্ষে এক মাত্র নেপাল হল হিন্দু তান্ত্রিক দেশ এছাড়া অন্য সকল দেশ গনতান্ত্রিক। এ অঞ্চলের অধিকাংশ লোক মুসলিম বা হিন্দু। তার মানে এই নয় যে সরকারী ব্যবস্থা অকার্যকর করে নিজ নিজ ধর্মিয় শাসন প্রতিষ্টা করতে হবে। হা যদি সেটা পার তো কর তবে করার আগে দশ বার ভাবো। 

বিশ্বে মুসলিমদের ইসলামিক কালচার পালনে বাধা পাবার জন্য একমাত্র অবিবেচক আর অজ্ঞ মুসলিমরাই দায়ি। বোরখা পরে আত্মঘাতী কর্মকান্ড করে বোরকার মান নষ্ট করা হয়েছে। ইসলামিক জিহাদ কে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে এখন লোকে সুন্নি পোষাক পরিচ্ছদ নিয়ম কানুন কে ভীতির ব্যপার হিসাবে চিহ্নিত করতে শুরু করেছে। যেখানে সুন্নি পোষাক পরিচ্ছদ দেখে লোকের আত্মবিশ্বাস পাবার কথা ছিল তার বদলে এটা ভীতি হিসাবে কাজ করছে। ফলে চাকুরী,  সমাজের বড় বড় প্রগ্রামে সুন্নি পোষাক ধারীদের প্রেবেশে অনেক ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কিন্তু বাড়ি বসে ইসলাম প্রতিষ্টা করা যাই না। ইসলাম প্রতিষ্টার জন্য সমাজের পদ গুলিতে যোগ দান করা আবশ্যক। অন্যদিকে পদ গুলি দখলের জন্য প্র‍য়োজন দীর্ঘ পরিকল্পনা। তাই ইসলামিক চেতনা যথাসম্ভব সামাজিক,  রাষ্টিয় গন্ডি অনুযায়ী পালন করে ভালো অবস্থান পাওয়ার প্রতিযোগীতা করা উচিৎ। ভালো পদ গুলোতে সৎ মানুষের প্রয়োগ ঘটলে ইসলাম এমনিতেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। বিষয়টি সকলেরি আন্তরিক ভাবে মনেরাখা উচিৎ।

আমরা দুনিয়াতে এসেছি শুধু আখিরাতের কাজের জন্য নয় দুনিয়ার কাজের জন্যেও। দুনিয়ার কাজ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাসি আখিরাতের কাজ করতে হবে। একটি অপরটির যেন এক পরিপূরক। 

দারিদ্রতা যখন দোয়ারে এসে দাঁড়ায় ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়। মনে রাখা উচিৎ কেও পাগল হয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে পারে না কেও পাগলের ভান করেও ইসলামি পথে থাকতে পারে না, বেশি পাগলামি করে বড় জোর পাগলা গারোদে যেতে পারে। তাই নিজেকে বাচাও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত কর তার পাশাপাশি ঈমানি চেতনা বজায় রাখ। কি মনে হয়? এটাই কি বেশি উপযোগী নয়? প্রতিটি মানুষের নিজস্ব চিন্তা চেতনা রয়েছে, প্রতিটি মানুষ নিজের রাজ্যের রাজা। যে যেমন বা যেমন পরিবেশে বেড়ে ওঠে তার চেতনা ও আচার ব্যবস্থা তেমনি হয়ে ওঠে। 

আমরা সহজে কিছু পেতে ভালোবাসি। জিহাদের কথা বললে প্রাণ দিতে রাজি কিন্তু ধন দিতে রাজি নই। ভারত বর্ষের মুসলিম সমাজ সবি বোঝে তবে অনেক পরে, সমস্যা এটাই। 

নো দ্যা সেল্ফ....... ভবিষ্যৎকে গড়তে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন, সেই ভবিষ্যত পরিকল্পনায় থাকা উচিৎ আখিরাতি চেতনার পাশাপাসি দুনিয়াবি চেতনা। তুমি নেতা না হয়ে নেতৃত্ব দিতে পারবে না, না খেয়ে বাচতে পারবে না, প্রচেষ্টা ছাড়া সফলতা পাবে না। আল্লাহ রক্ষা করবেন তবে তোমাকে প্রচেষ্টা করতে হবে এবং সেটি কৌশলে। হাত গুটিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে নবীজিও বসে থাকেন নি। তখনকার দিনে, নবীজি তখন কার মানুষের জন্যে, উত্তম কৌশল গ্রহন করেছিলেন, এখন কার লোকেদের জন্যে আমাদের এখন কার মতই কৌশলী 
 হতে হবে।

আমাদের দুনিয়াবি কাজে প্রতিযোগীতা করছি শব্দের অর্থ সেখানে নিজেই যুক্ত রয়েছি। আর নিজেই তো নিজেকে দোষারোপ করছি সুতারং অন্যের দোষ ধরব কি ভাবে। অনেকে অযুহাত করলেও মনে রাখা উচিৎ যে ইসলামিক বিধান কখনো ছাটায় হচ্ছে না, তার প্রয়োগে লোকে সাবধানী হচ্ছে মাত্র। মূলতঃ ইসলামিক রীতি বা কালচার প্রয়োগের পরিবেশ তৈরীতে পরিকল্পনাহীন ইসলামিক বাংলাদেশ ব্যর্থ। এই পরিবেশ একদিনে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাতে বদ হজম হয়ে আত্মঘাতি সিদ্ধান্তের মতই হবে ব্যপারটি।

পরিশেষে এটাই বলা যাই যে আমদের সুন্নি কর্মকান্ড পালনের জন্য সুন্নি পরিবেশ আগে গড়ে তোলা প্রয়োজন। নিজেদের প্রমান দিতে হবে যে সুন্নি লেয়াজ ধারী কোন ব্যক্তি সন্ত্রাসী কর্মকর্তা নয়। যতক্ষন এটা আমরা প্রমান না করছি ততক্ষন ৭ জন ডাকাতের মাঝে কোন পথচারীর অবস্থার মতই কি ব্যপারটি হবে না?




লেখক
কে-মাহমুদ
২৬-০৩-২০১৯